অস্টেলিয়া ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
হামদর্দের নতুন পণ্য আমরূপালি কালোজিরা ম্যাংগো বার এবং আমরূপালি সুইট ম্যাংগো বারের লঞ্চিং অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় হামদর্দ ও হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের সমঝোতা স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চলচ্চিত্রের নবজাগরণ: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ও আমাদের স্বপ্ন শিল্পী ইমরানের গানে মাতবে সিডনি রিহ্যাব নির্বাচন: আলিম উল্লাহর ভিন্ন দৃষ্টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে হামদর্দ প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় হামদর্দের সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা মুক্তির মানচিত্রে এক অবিনাশী নাম: জেনারেল এম এ জি ওসমানী টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের হাতে অনুদান প্রাপ্তির ফরম তুলে দেন পরিচালক জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিবের সাথে টাংগাইল জেলা কমিটির মতবিনিময়

চলচ্চিত্রের নবজাগরণ: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ও আমাদের স্বপ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ Time View
12

এস এম কামরুজ্জামান সাগর,নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট:

আজ ৩রা এপ্রিল। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই সোনালী অতীতকে, যা থেকে এই ভূখণ্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের জয়যাত্রার সূচনা হয়েছিল।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গভীর এবং দূরদর্শী। ১৯৫৭ সালের এই দিনে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (তৎকালীন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী) চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) বিল উত্থাপন করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বিএফডিসি (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন)। একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় চলচ্চিত্রের গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা বঙ্গবন্ধু সে সময়েই উপলব্ধি করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন প্রাণ দিতে ২০১২ সাল থেকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এই দিনটি পালনের পেছনে শুধু উৎসব নয়, বরং নিহিত রয়েছে সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য:

* চলচ্চিত্রের গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

* কিংবদন্তি শিল্পী ও কুশলীদের কাজের স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা জানানো।

* দেশীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ও চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উত্তরণের পথ খোঁজা।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে তেজগাঁওয়ের এফডিসি চত্বর সেজে ওঠে উৎসবের আমেজে। দিনটিকে ঘিরে সাধারণত যে আয়োজনগুলো দেখা যায়:

* চলচ্চিত্রের নবীন-প্রবীণ শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

* চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আলোচনা।

* গান, নৃত্য সহ নানান রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন।

* কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো বড় পর্দায় প্রদর্শনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা।

বাংলা চলচ্চিত্র এখন এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমানের নির্মাণশৈলী এবং মৌলিক গল্পের সন্ধানে ব্যস্ত আমাদের নির্মাতারা। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ আরও সুসংহত হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

চলচ্চিত্র হলো সমাজের দর্পণ। ৩রা এপ্রিল আমাদের কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের দিন। বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই স্বপ্নের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে আজ আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার প্রয়োজন।

শুভ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস!
জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।

Tag :
About Author Information

হামদর্দের নতুন পণ্য আমরূপালি কালোজিরা ম্যাংগো বার এবং আমরূপালি সুইট ম্যাংগো বারের লঞ্চিং অনুষ্ঠিত

চলচ্চিত্রের নবজাগরণ: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ও আমাদের স্বপ্ন

Update Time : ০৬:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
12

এস এম কামরুজ্জামান সাগর,নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট:

আজ ৩রা এপ্রিল। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই সোনালী অতীতকে, যা থেকে এই ভূখণ্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের জয়যাত্রার সূচনা হয়েছিল।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গভীর এবং দূরদর্শী। ১৯৫৭ সালের এই দিনে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (তৎকালীন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী) চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) বিল উত্থাপন করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বিএফডিসি (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন)। একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় চলচ্চিত্রের গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা বঙ্গবন্ধু সে সময়েই উপলব্ধি করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন প্রাণ দিতে ২০১২ সাল থেকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এই দিনটি পালনের পেছনে শুধু উৎসব নয়, বরং নিহিত রয়েছে সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য:

* চলচ্চিত্রের গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

* কিংবদন্তি শিল্পী ও কুশলীদের কাজের স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা জানানো।

* দেশীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ও চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উত্তরণের পথ খোঁজা।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে তেজগাঁওয়ের এফডিসি চত্বর সেজে ওঠে উৎসবের আমেজে। দিনটিকে ঘিরে সাধারণত যে আয়োজনগুলো দেখা যায়:

* চলচ্চিত্রের নবীন-প্রবীণ শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

* চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আলোচনা।

* গান, নৃত্য সহ নানান রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন।

* কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো বড় পর্দায় প্রদর্শনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা।

বাংলা চলচ্চিত্র এখন এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমানের নির্মাণশৈলী এবং মৌলিক গল্পের সন্ধানে ব্যস্ত আমাদের নির্মাতারা। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ আরও সুসংহত হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

চলচ্চিত্র হলো সমাজের দর্পণ। ৩রা এপ্রিল আমাদের কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের দিন। বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই স্বপ্নের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে আজ আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার প্রয়োজন।

শুভ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস!
জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।