অস্টেলিয়া ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
যানবাহন খাতের সম্ভাব্য রাজস্ব নিয়ে কিছু হিসাব:রাষ্ট্রের আয় বাড়ানোর বিকল্প পথ কি নেই? স্বাস্থ্য শিক্ষায় অবদানে ট্রাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন ট্রাব বিজনেস সিএসআর অ্যান্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত মালদ্বীপ প্রবাসী হাদিউল ইসলাম নায়িকা প্রিয় মনির ট্রাব কালচারাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট পাঁচ সংগঠনের সাথে হামদর্দের মতবিনিময় ও সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন রঘু রাই: ইতিহাসের সাক্ষী ও এক অবিনশ্বর লেন্সের কারিগর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ গঠিত হাতিরঝিলে জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ রান সিজন-২’ বাংলাদেশের উন্নয়নে কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পের বর্তমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা- মোঃ সাইদ হাসান সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন তফসিল ঘোষণা

মুক্তির মানচিত্রে এক অবিনাশী নাম: জেনারেল এম এ জি ওসমানী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৫ Time View
99

এস এম কামরুজ্জামান সাগর

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সাল ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে ধূলিমলিন গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা অকুতোভয় তরুণদের একটি সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে রূপান্তর করার কারিগর ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি এই মহান দেশপ্রেমিককে।

১৮১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই মানুষটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৮ সালে তিনি কর্ণেল পদে পদোন্নতি পান। সারা জীবন তিনি যে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন, তা আজও সামরিক বাহিনীর জন্য অনুসরণীয়। তাঁর সেই বিখ্যাত বিশাল গোঁফ আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ছিল আস্থার প্রতীক।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হলে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি (Commander-in-Chief) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর হাত ধরেই গঠিত হয় নিয়মিত বাহিনী এবং গণবাহিনী বা গেরিলা যোদ্ধাদের সমন্বিত আক্রমণ পরিকল্পনা।

সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা এবং সেক্টর কমান্ডারদের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করা ছিল তাঁর দূরদর্শী রণকৌশল। সীমিত রসদ আর বিশাল শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং ১৯৭২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি একনিষ্ঠ শ্রদ্ধাশীল। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা প্রমাণ করে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে আদর্শকে বড় মনে করতেন।

১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সিংহপুরুষ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। এম এ জি ওসমানী শুধু একজন সেনাপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সততা ও আত্মমর্যাদার মূর্ত প্রতীক। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন দেশপ্রেমের এক চিরন্তন পাঠশালা।

এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।

Tag :
About Author Information

যানবাহন খাতের সম্ভাব্য রাজস্ব নিয়ে কিছু হিসাব:রাষ্ট্রের আয় বাড়ানোর বিকল্প পথ কি নেই?

মুক্তির মানচিত্রে এক অবিনাশী নাম: জেনারেল এম এ জি ওসমানী

Update Time : ০৬:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
99

এস এম কামরুজ্জামান সাগর

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সাল ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে ধূলিমলিন গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা অকুতোভয় তরুণদের একটি সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে রূপান্তর করার কারিগর ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি এই মহান দেশপ্রেমিককে।

১৮১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই মানুষটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৮ সালে তিনি কর্ণেল পদে পদোন্নতি পান। সারা জীবন তিনি যে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন, তা আজও সামরিক বাহিনীর জন্য অনুসরণীয়। তাঁর সেই বিখ্যাত বিশাল গোঁফ আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ছিল আস্থার প্রতীক।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হলে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি (Commander-in-Chief) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর হাত ধরেই গঠিত হয় নিয়মিত বাহিনী এবং গণবাহিনী বা গেরিলা যোদ্ধাদের সমন্বিত আক্রমণ পরিকল্পনা।

সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা এবং সেক্টর কমান্ডারদের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করা ছিল তাঁর দূরদর্শী রণকৌশল। সীমিত রসদ আর বিশাল শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং ১৯৭২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি একনিষ্ঠ শ্রদ্ধাশীল। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা প্রমাণ করে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে আদর্শকে বড় মনে করতেন।

১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সিংহপুরুষ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। এম এ জি ওসমানী শুধু একজন সেনাপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সততা ও আত্মমর্যাদার মূর্ত প্রতীক। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন দেশপ্রেমের এক চিরন্তন পাঠশালা।

এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।