অস্টেলিয়া ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
‘ফিরে যাই সূর্য দীঘল বাড়ি’ শিরোনামে কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও অভিধান প্রণেতা আবু ইসহাককে স্মরণ করে আলোচনা সভা অস্ট্রেলিয়ার রিলায়েবল কলেজ অব নার্সিং-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সাংবাদিক মোহাম্মাদ আবদুল মতিন সিডনিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘NEXT25: A Muslim Youth Summit’: ব্যাপক সাড়া চ্যানেল আইয়ের ‘আমরাই বাংলাদেশ’ টকশোতে সাইফুল ইসলাম সোহেল ও চিত্রনায়ক ডিএ তায়েব জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে ‘চুরাশিয়ান’দের জমকালো মহামিলন ভ্যান চুরিতে দিশেহারা প্রতিবন্ধী মোশাররফের মুখে ফের হাসি ফুটালেন অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন ভারতে যাচ্ছে ময়না ২০ মে ১৯৭১: এক অভিশপ্ত সকাল এবং পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংসতম চুকনগর গণহত্যা হাসপাতালে সড়কযোদ্ধা সোহানি: মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ খোকনের সহমর্মিতা

মুক্তির মানচিত্রে এক অবিনাশী নাম: জেনারেল এম এ জি ওসমানী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬০ Time View

এস এম কামরুজ্জামান সাগর

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সাল ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে ধূলিমলিন গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা অকুতোভয় তরুণদের একটি সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে রূপান্তর করার কারিগর ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি এই মহান দেশপ্রেমিককে।

১৮১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই মানুষটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৮ সালে তিনি কর্ণেল পদে পদোন্নতি পান। সারা জীবন তিনি যে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন, তা আজও সামরিক বাহিনীর জন্য অনুসরণীয়। তাঁর সেই বিখ্যাত বিশাল গোঁফ আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ছিল আস্থার প্রতীক।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হলে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি (Commander-in-Chief) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর হাত ধরেই গঠিত হয় নিয়মিত বাহিনী এবং গণবাহিনী বা গেরিলা যোদ্ধাদের সমন্বিত আক্রমণ পরিকল্পনা।

সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা এবং সেক্টর কমান্ডারদের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করা ছিল তাঁর দূরদর্শী রণকৌশল। সীমিত রসদ আর বিশাল শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং ১৯৭২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি একনিষ্ঠ শ্রদ্ধাশীল। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা প্রমাণ করে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে আদর্শকে বড় মনে করতেন।

১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সিংহপুরুষ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। এম এ জি ওসমানী শুধু একজন সেনাপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সততা ও আত্মমর্যাদার মূর্ত প্রতীক। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন দেশপ্রেমের এক চিরন্তন পাঠশালা।

এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।

Tag :
About Author Information

‘ফিরে যাই সূর্য দীঘল বাড়ি’ শিরোনামে কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও অভিধান প্রণেতা আবু ইসহাককে স্মরণ করে আলোচনা সভা

মুক্তির মানচিত্রে এক অবিনাশী নাম: জেনারেল এম এ জি ওসমানী

Update Time : ০৬:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

এস এম কামরুজ্জামান সাগর

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সাল ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে ধূলিমলিন গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা অকুতোভয় তরুণদের একটি সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে রূপান্তর করার কারিগর ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি এই মহান দেশপ্রেমিককে।

১৮১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই মানুষটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৮ সালে তিনি কর্ণেল পদে পদোন্নতি পান। সারা জীবন তিনি যে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন, তা আজও সামরিক বাহিনীর জন্য অনুসরণীয়। তাঁর সেই বিখ্যাত বিশাল গোঁফ আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ছিল আস্থার প্রতীক।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হলে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি (Commander-in-Chief) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর হাত ধরেই গঠিত হয় নিয়মিত বাহিনী এবং গণবাহিনী বা গেরিলা যোদ্ধাদের সমন্বিত আক্রমণ পরিকল্পনা।

সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা এবং সেক্টর কমান্ডারদের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করা ছিল তাঁর দূরদর্শী রণকৌশল। সীমিত রসদ আর বিশাল শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং ১৯৭২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি একনিষ্ঠ শ্রদ্ধাশীল। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা প্রমাণ করে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে আদর্শকে বড় মনে করতেন।

১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সিংহপুরুষ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। এম এ জি ওসমানী শুধু একজন সেনাপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সততা ও আত্মমর্যাদার মূর্ত প্রতীক। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন দেশপ্রেমের এক চিরন্তন পাঠশালা।

এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।