অস্টেলিয়া ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
রিহ্যাব নির্বাচন: তাসনোভা মাহবুব সালামের নানা পরিকল্পনা ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’: সংলাপ, বিশ্লেষণ ও নতুন ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া–বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন আওয়ামীলীগ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় ১০১ সাংবাদিকের উদ্বেগ ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরামের নতুন ক‌মি‌টি গঠন সভাপতি সাখাওয়াত হো‌সেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজের আশ্বাস, মন্ত্রীর সাথে নিসচার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ হামদর্দের নতুন পণ্য আমরূপালি কালোজিরা ম্যাংগো বার এবং আমরূপালি সুইট ম্যাংগো বারের লঞ্চিং অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় হামদর্দ ও হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের সমঝোতা স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চলচ্চিত্রের নবজাগরণ: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ও আমাদের স্বপ্ন শিল্পী ইমরানের গানে মাতবে সিডনি

নেপালকে হারিয়ে আবারও সাফ জিতল বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
  • ২৯৪ Time View
41

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছিল বাংলাদেশ। মনিকা চাকমা আর ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে তা করে দেখিয়েছে কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা। স্বাগতিক নেপালকে ফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়ে জিতেছে সাফ শিরোপা।

দ্বিতীয় মিনিটে পূজা রানার ভুলে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন তহুরা খাতুন। তার শট ক্রসবারে প্রতিহত হয়। ফিরতি চেষ্টায় তার হেডার ঠেকান নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা। এর পরের মিনিটেই ছোট একটা ভুল করে বসেছিলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক রুপনা চাকমাও। যদিও সাবিত্রা ভাণ্ডারি সে সুযোগটা কাজে লাগানোর আগেই সামলে নেন রুপনা। দুটো ভুলই জানান দিচ্ছিল, ফাইনালের স্নায়ুচাপ দুই দলেই ভালোভাবে জেঁকে বসেছে।

ক্রসবার শুরুর দিকে বাংলাদেশের গোলের পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল। ১০ মিনিটে নেপালেরও একটা গোলের চেষ্টা আটকে যায় ক্রসবারে। বক্সের বাইরে থেকে আমিশা কারকির একটা শট গিয়ে লাগে ওই পোস্টে। বাংলাদেশ গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায় তাতে।

ম্যাচের ১৮ মিনিটে মনিকা চাকমাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন অমৃতা জইশি। মিনিট চারেক পর দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে মাসুরা পারভীনের শট সহজেই আয়ত্বে নেন নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা।

২৭ মিনিটে আমিশা কারকি সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ রক্ষণ বিষয়টা সামলে নেয় ভালোভাবেই। ৩৩ মিনিটে নেপাল বক্সের বাইরে সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। তবে সফরকারীরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। মারিয়া মান্দার শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায় বাইরে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নেপাল আবারও সুযোগ পায়, তবে এবার রাইট উইংয়ে সাবিতার ভুলে নেপাল গোল পায়নি, তিনি পা পিছলে পড়ে গেলে শামসুন্নাহার সিনিয়র বলের দখল নিয়ে নেন।

প্রথমার্ধে সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি কোনো দলই। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় শুরুর ৪৫ মিনিট। সব রোমাঞ্চ তোলা থাকে পরের ৪৫ মিনিটের জন্য।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছিল। ৫২ মিনিটে সফরকারীদের দারুণ বিল্ড আপ শেষে সাবিতা রানা মাগারের ভুলে বল গিয়ে পড়ে মনিকা চাকমার পায়ে। তার গোলে ডিফেন্ডিঙ চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যায়।

তবে সে লিড বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারেনি। স্বাগতিক নেপাল জবাব দেয় ৫৫ মিনিটে। প্রীতি রাইয়ের পাস আটকাতে ভুল করেন মাসুরা পারভীন। বল গিয়ে পড়ে আমিশা কারকির পায়ে। গোলরক্ষককে একা পেয়ে বলটা সহজেই জালে জড়ান নেপালি এই ফরোয়ার্ড।

এরপর থেকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় সফলতার খুব কাছাকাছি সবচেয়ে বেশি গেছে নেপালই। সাবিত্রা ভাণ্ডারী, আমিশা কারকিদের একাধিক শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন রুপনা চাকমা।

৭৬ মিনিটে মারিয়া মান্দার দারুণ এক শট লাফিয়ে উঠে এক হাতে সেভ দেন নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা। তবে ৮০ মিনিটে আর পেরে ওঠেননি নেপাল গোলরক্ষক। সে গোলে একাধিক ভুল করেছে স্বাগতিকরা। শামসুন্নাহার সিনিয়রের থ্রো ইন থেকে ঋতুপর্ণা চাকমাকে মার্ক করার দায়িত্ব ছিল বদলি খেলোয়াড় আনিতা বেসনেতের। তিনি তা পারেননি, অনেকটা ফাঁকায় থেকে শট নেন ঋতুপর্ণা। তার শট আনজিলার হাতে লেগে জালে। মুহূর্তেই দশরথ রঙ্গশালায় হাজির ১৩০০০ দর্শক স্তব্ধ হয়ে যান রীতিমতো।

শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের শিরোপা উৎসব। ওদিকে নেপাল টানা ষষ্ঠ বারের মতো নারী সাফের ফাইনালে পোড়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রিহ্যাব নির্বাচন: তাসনোভা মাহবুব সালামের নানা পরিকল্পনা

নেপালকে হারিয়ে আবারও সাফ জিতল বাংলাদেশ

Update Time : ০৩:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
41

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছিল বাংলাদেশ। মনিকা চাকমা আর ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে তা করে দেখিয়েছে কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা। স্বাগতিক নেপালকে ফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়ে জিতেছে সাফ শিরোপা।

দ্বিতীয় মিনিটে পূজা রানার ভুলে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন তহুরা খাতুন। তার শট ক্রসবারে প্রতিহত হয়। ফিরতি চেষ্টায় তার হেডার ঠেকান নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা। এর পরের মিনিটেই ছোট একটা ভুল করে বসেছিলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক রুপনা চাকমাও। যদিও সাবিত্রা ভাণ্ডারি সে সুযোগটা কাজে লাগানোর আগেই সামলে নেন রুপনা। দুটো ভুলই জানান দিচ্ছিল, ফাইনালের স্নায়ুচাপ দুই দলেই ভালোভাবে জেঁকে বসেছে।

ক্রসবার শুরুর দিকে বাংলাদেশের গোলের পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল। ১০ মিনিটে নেপালেরও একটা গোলের চেষ্টা আটকে যায় ক্রসবারে। বক্সের বাইরে থেকে আমিশা কারকির একটা শট গিয়ে লাগে ওই পোস্টে। বাংলাদেশ গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায় তাতে।

ম্যাচের ১৮ মিনিটে মনিকা চাকমাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন অমৃতা জইশি। মিনিট চারেক পর দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে মাসুরা পারভীনের শট সহজেই আয়ত্বে নেন নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা।

২৭ মিনিটে আমিশা কারকি সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ রক্ষণ বিষয়টা সামলে নেয় ভালোভাবেই। ৩৩ মিনিটে নেপাল বক্সের বাইরে সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। তবে সফরকারীরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। মারিয়া মান্দার শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায় বাইরে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নেপাল আবারও সুযোগ পায়, তবে এবার রাইট উইংয়ে সাবিতার ভুলে নেপাল গোল পায়নি, তিনি পা পিছলে পড়ে গেলে শামসুন্নাহার সিনিয়র বলের দখল নিয়ে নেন।

প্রথমার্ধে সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি কোনো দলই। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় শুরুর ৪৫ মিনিট। সব রোমাঞ্চ তোলা থাকে পরের ৪৫ মিনিটের জন্য।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছিল। ৫২ মিনিটে সফরকারীদের দারুণ বিল্ড আপ শেষে সাবিতা রানা মাগারের ভুলে বল গিয়ে পড়ে মনিকা চাকমার পায়ে। তার গোলে ডিফেন্ডিঙ চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যায়।

তবে সে লিড বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারেনি। স্বাগতিক নেপাল জবাব দেয় ৫৫ মিনিটে। প্রীতি রাইয়ের পাস আটকাতে ভুল করেন মাসুরা পারভীন। বল গিয়ে পড়ে আমিশা কারকির পায়ে। গোলরক্ষককে একা পেয়ে বলটা সহজেই জালে জড়ান নেপালি এই ফরোয়ার্ড।

এরপর থেকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় সফলতার খুব কাছাকাছি সবচেয়ে বেশি গেছে নেপালই। সাবিত্রা ভাণ্ডারী, আমিশা কারকিদের একাধিক শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন রুপনা চাকমা।

৭৬ মিনিটে মারিয়া মান্দার দারুণ এক শট লাফিয়ে উঠে এক হাতে সেভ দেন নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা। তবে ৮০ মিনিটে আর পেরে ওঠেননি নেপাল গোলরক্ষক। সে গোলে একাধিক ভুল করেছে স্বাগতিকরা। শামসুন্নাহার সিনিয়রের থ্রো ইন থেকে ঋতুপর্ণা চাকমাকে মার্ক করার দায়িত্ব ছিল বদলি খেলোয়াড় আনিতা বেসনেতের। তিনি তা পারেননি, অনেকটা ফাঁকায় থেকে শট নেন ঋতুপর্ণা। তার শট আনজিলার হাতে লেগে জালে। মুহূর্তেই দশরথ রঙ্গশালায় হাজির ১৩০০০ দর্শক স্তব্ধ হয়ে যান রীতিমতো।

শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের শিরোপা উৎসব। ওদিকে নেপাল টানা ষষ্ঠ বারের মতো নারী সাফের ফাইনালে পোড়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়।