অস্টেলিয়া ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
‘ফিরে যাই সূর্য দীঘল বাড়ি’ শিরোনামে কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও অভিধান প্রণেতা আবু ইসহাককে স্মরণ করে আলোচনা সভা অস্ট্রেলিয়ার রিলায়েবল কলেজ অব নার্সিং-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সাংবাদিক মোহাম্মাদ আবদুল মতিন সিডনিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘NEXT25: A Muslim Youth Summit’: ব্যাপক সাড়া চ্যানেল আইয়ের ‘আমরাই বাংলাদেশ’ টকশোতে সাইফুল ইসলাম সোহেল ও চিত্রনায়ক ডিএ তায়েব জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে ‘চুরাশিয়ান’দের জমকালো মহামিলন ভ্যান চুরিতে দিশেহারা প্রতিবন্ধী মোশাররফের মুখে ফের হাসি ফুটালেন অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন ভারতে যাচ্ছে ময়না ২০ মে ১৯৭১: এক অভিশপ্ত সকাল এবং পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংসতম চুকনগর গণহত্যা হাসপাতালে সড়কযোদ্ধা সোহানি: মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ খোকনের সহমর্মিতা

চলচ্চিত্রের নবজাগরণ: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ও আমাদের স্বপ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩৪ Time View

এস এম কামরুজ্জামান সাগর,নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট:

আজ ৩রা এপ্রিল। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই সোনালী অতীতকে, যা থেকে এই ভূখণ্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের জয়যাত্রার সূচনা হয়েছিল।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গভীর এবং দূরদর্শী। ১৯৫৭ সালের এই দিনে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (তৎকালীন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী) চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) বিল উত্থাপন করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বিএফডিসি (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন)। একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় চলচ্চিত্রের গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা বঙ্গবন্ধু সে সময়েই উপলব্ধি করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন প্রাণ দিতে ২০১২ সাল থেকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এই দিনটি পালনের পেছনে শুধু উৎসব নয়, বরং নিহিত রয়েছে সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য:

* চলচ্চিত্রের গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

* কিংবদন্তি শিল্পী ও কুশলীদের কাজের স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা জানানো।

* দেশীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ও চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উত্তরণের পথ খোঁজা।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে তেজগাঁওয়ের এফডিসি চত্বর সেজে ওঠে উৎসবের আমেজে। দিনটিকে ঘিরে সাধারণত যে আয়োজনগুলো দেখা যায়:

* চলচ্চিত্রের নবীন-প্রবীণ শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

* চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আলোচনা।

* গান, নৃত্য সহ নানান রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন।

* কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো বড় পর্দায় প্রদর্শনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা।

বাংলা চলচ্চিত্র এখন এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমানের নির্মাণশৈলী এবং মৌলিক গল্পের সন্ধানে ব্যস্ত আমাদের নির্মাতারা। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ আরও সুসংহত হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

চলচ্চিত্র হলো সমাজের দর্পণ। ৩রা এপ্রিল আমাদের কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের দিন। বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই স্বপ্নের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে আজ আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার প্রয়োজন।

শুভ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস!
জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফিরে যাই সূর্য দীঘল বাড়ি’ শিরোনামে কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও অভিধান প্রণেতা আবু ইসহাককে স্মরণ করে আলোচনা সভা

চলচ্চিত্রের নবজাগরণ: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ও আমাদের স্বপ্ন

Update Time : ০৬:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

এস এম কামরুজ্জামান সাগর,নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট:

আজ ৩রা এপ্রিল। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই সোনালী অতীতকে, যা থেকে এই ভূখণ্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের জয়যাত্রার সূচনা হয়েছিল।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গভীর এবং দূরদর্শী। ১৯৫৭ সালের এই দিনে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (তৎকালীন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী) চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) বিল উত্থাপন করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বিএফডিসি (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন)। একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় চলচ্চিত্রের গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা বঙ্গবন্ধু সে সময়েই উপলব্ধি করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন প্রাণ দিতে ২০১২ সাল থেকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এই দিনটি পালনের পেছনে শুধু উৎসব নয়, বরং নিহিত রয়েছে সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য:

* চলচ্চিত্রের গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

* কিংবদন্তি শিল্পী ও কুশলীদের কাজের স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা জানানো।

* দেশীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ও চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উত্তরণের পথ খোঁজা।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে তেজগাঁওয়ের এফডিসি চত্বর সেজে ওঠে উৎসবের আমেজে। দিনটিকে ঘিরে সাধারণত যে আয়োজনগুলো দেখা যায়:

* চলচ্চিত্রের নবীন-প্রবীণ শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

* চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আলোচনা।

* গান, নৃত্য সহ নানান রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন।

* কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো বড় পর্দায় প্রদর্শনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা।

বাংলা চলচ্চিত্র এখন এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমানের নির্মাণশৈলী এবং মৌলিক গল্পের সন্ধানে ব্যস্ত আমাদের নির্মাতারা। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ আরও সুসংহত হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

চলচ্চিত্র হলো সমাজের দর্পণ। ৩রা এপ্রিল আমাদের কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের দিন। বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই স্বপ্নের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে আজ আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার প্রয়োজন।

শুভ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস!
জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।