অস্টেলিয়া ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
রিহ্যাব নির্বাচন: তাসনোভা মাহবুব সালামের নানা পরিকল্পনা ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’: সংলাপ, বিশ্লেষণ ও নতুন ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া–বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন আওয়ামীলীগ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় ১০১ সাংবাদিকের উদ্বেগ ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরামের নতুন ক‌মি‌টি গঠন সভাপতি সাখাওয়াত হো‌সেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজের আশ্বাস, মন্ত্রীর সাথে নিসচার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ হামদর্দের নতুন পণ্য আমরূপালি কালোজিরা ম্যাংগো বার এবং আমরূপালি সুইট ম্যাংগো বারের লঞ্চিং অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় হামদর্দ ও হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের সমঝোতা স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চলচ্চিত্রের নবজাগরণ: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ও আমাদের স্বপ্ন শিল্পী ইমরানের গানে মাতবে সিডনি

সুমাইয়া হারুনের মিস আর্থ বাংলাদেশ এর মুকুট জয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৯৬ Time View
53

সালাম মাহমুদ : জাতীয় পর্যায়ের তরুণীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট অর্জন করেছেন সুমাইয়া হারুন।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামলীতে জাতীয় মানবিক সংগঠন ছায়াতল বাংলাদেশ এর স্কুল প্রাঙ্গণে কোমলমতি শিশুদের উপস্থিতিতে নতুন মিস আর্থ বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের মিস আর্থ বাংলাদেশ ফেরদৌসি তানভীর ইচ্ছা নবনির্বাচিত রানী সুমাইয়া হারুনের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেঘনা আলম, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের ওরাল সার্জন ডা. তাসিন আফরিন ডায়ানা, আন্তর্জাতিক আইন উপদেষ্টা তাহরিন জেরিন, মিস কালচার গ্লোবাল ২০২৪ জয়ী জুমানা নাইলাত শখ প্রমুখ।

২৪ বছর বয়সী সুমাইয়া হারুন একজন কানাডীয় বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও এসডিজি উদ্যোক্তা। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি কানাডিয়ান ওভারসিজ বিজনেস ইনকর্পোরেটেড-এ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত, যেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

মিস আর্থ বাংলাদেশ হিসেবে এবার তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘মিস আর্থ’ প্রতিযোগিতায়—যা বিশ্বের অন্যতম বিগ ফোর আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা। এটি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, যেখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিশুদ্ধ পানি, ও টেকসই নগরায়ণের ওপর।

বিজয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সুমাইয়া হারুন বলেন,
“একজন সত্যিকারের রাণী সৌন্দর্যের জন্য নয়, দায়িত্বের জন্য মুকুট পরেন। তিনি পৃথিবীকে রক্ষা করেন, হৃদয় জাগান, আর যেখানে দাঁড়ান, সেখানেই আশার পদচিহ্ন রেখে যান।
আমি এমন এক রাণী হতে চাই, যিনি শুনবেন, শিখবেন এবং সৌজন্য দিয়ে নেতৃত্ব দেবেন। আমি কাজ করতে চাই টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ শিক্ষা ও তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে।
‘মিস আর্থ’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি আন্দোলন—যেখানে সৌন্দর্য ও দায়িত্ব এক হয়ে যায়, এবং এক নারীর কণ্ঠস্বর হতে পারে এক জাতির পরিবর্তনের প্রেরণা।”

আয়োজন সম্পর্কে মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেঘনা আলম বলেন, “নারী শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নন, তিনি জীবনের প্রতীক।
এই বছর এক স্কুলের বঞ্চিত শিশুরা আমার জন্মমাসটিকে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে উদযাপন করতে চেয়েছিল। আমি চেয়েছিলাম সেই ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দিতে এমনভাবে, যা সত্যিকারের পরিবর্তন আনে। তাই পাঁচ তারকা হোটেল নয়, আমি বেছে নিয়েছি এই মুকুট উৎসবকে শিশুদের মাঝে উদযাপন করতে—কারণ শিশুর মতো নির্মল হৃদয়ের চেয়ে সুন্দর জায়গা আর নেই।”

তিনি আরও জানান, এই উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের পরদিন, “প্রকৃতি, শিশু ও ভালোবাসা” থিমে। আয়োজনের অংশ হিসেবে হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গল্পপাঠ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
তিনি বলেন, “আমাদের মিস আর্থ কুইনরা শুধু মডেল নন, তাঁরা রোল মডেল—সমাজসেবা, টেকসই জীবনধারা ও বৈশ্বিক বন্ধুত্বের অনুপ্রেরণা।
আমরা জাতিকে একত্র করছি, পরিবেশ রক্ষা করছি, এবং বিশ্বকে দেখাচ্ছি যে বাংলাদেশ বন্ধুত্ব, সমতা ও মর্যাদার যোগ্য।”
তিনি আরও জানান, মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য হলো সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাকে কেবল বিনোদনের পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক সচেতনতা ও কূটনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

এই ফোরামটি কাজ করছে তিনটি মূল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (SDG)-এর ওপর:

জলবায়ু ব্যবস্থা (SDG 13)

লিঙ্গ সমতা (SDG 5)

অংশীদারিত্ব ও বৈশ্বিক সহযোগিতা (SDG 17)

প্রতি বছর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো হয় বিশ্বের ছয়টি মহাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।

মেঘনা আলম আরও জানান, মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এশিয়ার প্রথম SDG-কেন্দ্রিক নারী নেতৃত্ব ও জলবায়ু কূটনীতি প্ল্যাটফর্ম।
নবনির্বাচিত মিস আর্থ বাংলাদেশ সুমাইয়া হারুন-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে একজন ‘ইয়ুথ এনভয়’ (Youth Envoy) হিসেবে, যিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং সাংস্কৃতিক ও জলবায়ু কূটনীতির মাধ্যমে দেশের সফট পাওয়ার বৃদ্ধি করবেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রিহ্যাব নির্বাচন: তাসনোভা মাহবুব সালামের নানা পরিকল্পনা

সুমাইয়া হারুনের মিস আর্থ বাংলাদেশ এর মুকুট জয়

Update Time : ০৪:৪০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
53

সালাম মাহমুদ : জাতীয় পর্যায়ের তরুণীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট অর্জন করেছেন সুমাইয়া হারুন।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামলীতে জাতীয় মানবিক সংগঠন ছায়াতল বাংলাদেশ এর স্কুল প্রাঙ্গণে কোমলমতি শিশুদের উপস্থিতিতে নতুন মিস আর্থ বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের মিস আর্থ বাংলাদেশ ফেরদৌসি তানভীর ইচ্ছা নবনির্বাচিত রানী সুমাইয়া হারুনের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেঘনা আলম, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের ওরাল সার্জন ডা. তাসিন আফরিন ডায়ানা, আন্তর্জাতিক আইন উপদেষ্টা তাহরিন জেরিন, মিস কালচার গ্লোবাল ২০২৪ জয়ী জুমানা নাইলাত শখ প্রমুখ।

২৪ বছর বয়সী সুমাইয়া হারুন একজন কানাডীয় বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও এসডিজি উদ্যোক্তা। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি কানাডিয়ান ওভারসিজ বিজনেস ইনকর্পোরেটেড-এ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত, যেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

মিস আর্থ বাংলাদেশ হিসেবে এবার তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘মিস আর্থ’ প্রতিযোগিতায়—যা বিশ্বের অন্যতম বিগ ফোর আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা। এটি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, যেখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিশুদ্ধ পানি, ও টেকসই নগরায়ণের ওপর।

বিজয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সুমাইয়া হারুন বলেন,
“একজন সত্যিকারের রাণী সৌন্দর্যের জন্য নয়, দায়িত্বের জন্য মুকুট পরেন। তিনি পৃথিবীকে রক্ষা করেন, হৃদয় জাগান, আর যেখানে দাঁড়ান, সেখানেই আশার পদচিহ্ন রেখে যান।
আমি এমন এক রাণী হতে চাই, যিনি শুনবেন, শিখবেন এবং সৌজন্য দিয়ে নেতৃত্ব দেবেন। আমি কাজ করতে চাই টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ শিক্ষা ও তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে।
‘মিস আর্থ’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি আন্দোলন—যেখানে সৌন্দর্য ও দায়িত্ব এক হয়ে যায়, এবং এক নারীর কণ্ঠস্বর হতে পারে এক জাতির পরিবর্তনের প্রেরণা।”

আয়োজন সম্পর্কে মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেঘনা আলম বলেন, “নারী শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নন, তিনি জীবনের প্রতীক।
এই বছর এক স্কুলের বঞ্চিত শিশুরা আমার জন্মমাসটিকে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে উদযাপন করতে চেয়েছিল। আমি চেয়েছিলাম সেই ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দিতে এমনভাবে, যা সত্যিকারের পরিবর্তন আনে। তাই পাঁচ তারকা হোটেল নয়, আমি বেছে নিয়েছি এই মুকুট উৎসবকে শিশুদের মাঝে উদযাপন করতে—কারণ শিশুর মতো নির্মল হৃদয়ের চেয়ে সুন্দর জায়গা আর নেই।”

তিনি আরও জানান, এই উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের পরদিন, “প্রকৃতি, শিশু ও ভালোবাসা” থিমে। আয়োজনের অংশ হিসেবে হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গল্পপাঠ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
তিনি বলেন, “আমাদের মিস আর্থ কুইনরা শুধু মডেল নন, তাঁরা রোল মডেল—সমাজসেবা, টেকসই জীবনধারা ও বৈশ্বিক বন্ধুত্বের অনুপ্রেরণা।
আমরা জাতিকে একত্র করছি, পরিবেশ রক্ষা করছি, এবং বিশ্বকে দেখাচ্ছি যে বাংলাদেশ বন্ধুত্ব, সমতা ও মর্যাদার যোগ্য।”
তিনি আরও জানান, মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য হলো সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাকে কেবল বিনোদনের পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক সচেতনতা ও কূটনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

এই ফোরামটি কাজ করছে তিনটি মূল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (SDG)-এর ওপর:

জলবায়ু ব্যবস্থা (SDG 13)

লিঙ্গ সমতা (SDG 5)

অংশীদারিত্ব ও বৈশ্বিক সহযোগিতা (SDG 17)

প্রতি বছর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো হয় বিশ্বের ছয়টি মহাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।

মেঘনা আলম আরও জানান, মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এশিয়ার প্রথম SDG-কেন্দ্রিক নারী নেতৃত্ব ও জলবায়ু কূটনীতি প্ল্যাটফর্ম।
নবনির্বাচিত মিস আর্থ বাংলাদেশ সুমাইয়া হারুন-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে একজন ‘ইয়ুথ এনভয়’ (Youth Envoy) হিসেবে, যিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং সাংস্কৃতিক ও জলবায়ু কূটনীতির মাধ্যমে দেশের সফট পাওয়ার বৃদ্ধি করবেন।