অস্টেলিয়া ০২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চলচ্চিত্র নির্মাণে আবুল হোসেন মজুমদার মালদ্বীপে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেকআপের উচ্চতর প্রশিক্ষণে নেপালে মেহজাবিন সাবা শুরু হলো গুলশানে ৩ দিন ব্যাপী প্রিমিয়াম হোল্ডিং এর পিঠা উৎসব ও একক আবাসন মেলা অস্ট্রেলিয়ায় নানা আয়োজনে কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন স্মরণ বেগম খালেদা জিয়া আর নেই সিডনিতে বিওয়াইএসসিএ এর উদ্যোগে প্রবাস থেকে প্রথম ভোটের নিবন্ধন ও নির্বাচনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রবাসি সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ | প্রথম আলো–ডেইলি স্টারে হামলা, অগ্নিসংযোগ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ- মালদ্বীপের শিক্ষা সহযোগিতা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও সরকারি আসন বরাদ্দ ঘোষণা নেপাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ইউনিটির কমিটি ইয়াসিন খান সভাপতি, মিজানুর রহমান নির্বাহী সভাপতি, সালাম মাহমুদ সাধারণ সম্পাদক

আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ-চীন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ২০০ Time View

আবদুল্লাহ কাদের মালদ্বীপ প্রতিনিধি: মালদ্বীপে আঞ্চলিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও চীন তাদের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার ( ১৩ নভেম্বর) সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উভয়ই এই অঙ্গীকার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। তাঁরা বিশেষভাবে জোর দেন আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন জোরদারের ওপর। মালদ্বীপে বাংলাদেশ-চীন ও মালদ্বীপের মধ্যেকার ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামো আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। যাতে তিনটি দেশই সম্মিলিতভাবে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অবদান রাখতে পারে।

আলোচনায় মালদ্বীপে চলমান বিভিন্ন চীনা বিনিয়োগ প্রকল্পে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। চায়না-মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক বিমানবন্দর নির্মাণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেট) সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন উভয় কূটনীতিক।

চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া বলেন, “মালদ্বীপে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা সবসময় ‘উইন-উইন পার্টনারশিপ’-এর নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। যার লক্ষ্য সকলের অন্তর্ভুক্তমূলক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।” তিনি বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চীনা দূতাবাস মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের উন্নয়ন সহযোগিতায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি ও সক্ষম দেশ হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি স্বাভাবিক অংশীদার। অবকাঠামো, শিক্ষা, নীল অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজের সুযোগ বিশাল।” উভয় রাষ্ট্রদূত মালদ্বীপের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন। তাঁরা একমত হন, তিন দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে বলেন, “মালদ্বীপে অবস্থিত চীনা দূতাবাস সবসময় বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রাখবে।” উত্তরে হাইকমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশও প্রস্তুত রয়েছে এমন যেকোনো সহযোগিতায় অংশ নিতে, যেখানে তিন দেশের জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হতে পারে।”

বৈঠকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বন্ধন পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই কূটনীতিকই বিশ্বাস প্রকাশ করেন, ঐতিহাসিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা বজায় থাকলে আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও টেকসই উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে।

Tag :
About Author Information

চলচ্চিত্র নির্মাণে আবুল হোসেন মজুমদার

আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ-চীন

Update Time : ০২:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

আবদুল্লাহ কাদের মালদ্বীপ প্রতিনিধি: মালদ্বীপে আঞ্চলিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও চীন তাদের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার ( ১৩ নভেম্বর) সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উভয়ই এই অঙ্গীকার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। তাঁরা বিশেষভাবে জোর দেন আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন জোরদারের ওপর। মালদ্বীপে বাংলাদেশ-চীন ও মালদ্বীপের মধ্যেকার ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামো আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। যাতে তিনটি দেশই সম্মিলিতভাবে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অবদান রাখতে পারে।

আলোচনায় মালদ্বীপে চলমান বিভিন্ন চীনা বিনিয়োগ প্রকল্পে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। চায়না-মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক বিমানবন্দর নির্মাণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেট) সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন উভয় কূটনীতিক।

চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া বলেন, “মালদ্বীপে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা সবসময় ‘উইন-উইন পার্টনারশিপ’-এর নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। যার লক্ষ্য সকলের অন্তর্ভুক্তমূলক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।” তিনি বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চীনা দূতাবাস মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের উন্নয়ন সহযোগিতায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি ও সক্ষম দেশ হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি স্বাভাবিক অংশীদার। অবকাঠামো, শিক্ষা, নীল অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজের সুযোগ বিশাল।” উভয় রাষ্ট্রদূত মালদ্বীপের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন। তাঁরা একমত হন, তিন দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে বলেন, “মালদ্বীপে অবস্থিত চীনা দূতাবাস সবসময় বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রাখবে।” উত্তরে হাইকমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশও প্রস্তুত রয়েছে এমন যেকোনো সহযোগিতায় অংশ নিতে, যেখানে তিন দেশের জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হতে পারে।”

বৈঠকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বন্ধন পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই কূটনীতিকই বিশ্বাস প্রকাশ করেন, ঐতিহাসিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা বজায় থাকলে আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও টেকসই উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে।